সজল
,                              সদ্য সংবাদ:

মঙ্গলবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

চট্টগ্রামে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ।। দেশে এত বেশি সিজারিয়ান অপারেশন কাম্য নয়


আজাদী প্রতিবেদন ।।
চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ‘আমাদের সীমাবদ্ধতা অনেক। তাই যা আছে তা দিয়েই মানুষের সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে যেতে হবে। নো কমপ্লেইনজাস্ট ডু ইট।’ স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধীন চট্টগ্রামের কর্মকর্তা ও স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয়ে বিভাগীয় এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে গতকাল চট্টগ্রাম নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আরো বলেনদেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে এক লাখ চিকিৎসক দরকার। কিন্তু আছে বড়জোর ২০ থেকে ৩০ হাজার। একই ভাবে যেখানে আড়াই লাখ নার্স প্রয়োজন সেখানে আমাদের রয়েছে মাত্র ২৪ হাজার। তাই সংকট তো থাকবেই। এই সংকট নিয়েই আমাদের কাজ করতে হবে। মানুষকে সেবা দিয়ে যেতে হবে।
নানা সীমাবদ্ধতা ও সংকট থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ মা ও শিশু মৃত্যুর হার কমিয়ে এলজিইজি পুরস্কার লাভ করেছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেনএটা আমাদের জন্য সৌভাগ্যের ব্যাপার। এই অর্জন আপনাদের বদৌলতেই। তবে এখানেই শেষ নয়। বরং সামনে আরো বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। আমাদেরকে ইউএসডিজি পুরস্কারও লাভ করতে হবে। এর জন্য আমাদের একটি মহা-পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে হবে। মা ও শিশু মৃত্যুর হার আরো কমিয়ে আনতে হবে। চিকিৎসকদের উদ্দেশ্য করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেনবিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মান অনুযায়ী সিজারিয়ান অপারেশন ১৫ শতাংশের বেশি হওয়ার কথা নয়। কিন্তু দেশে ৬০/৭০ শতাংশের বেশি সিজারিয়ান অপারেশন। এটা কাম্য নয়। তাছাড়াবিভিন্ন সংকট ও সীমাবদ্ধতা দেখিয়ে অনেকে সরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশন করেন না। কিন্তু পার্শ্ববর্তী ক্লিনিকে ঠিকই করছেন। ওই সেবাটুকু সরকারি হাসপাতালে দিলে সাধারণ মানুষ সুবিধাটুকু পেতো। চিকিৎসকদের সব সময় ব্যবসায়িক মনোবৃত্তি পরিহার করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএমএ-চট্টগ্রামের সভাপতি ডামুজিবুল হক খানডিজিএফপি পরিচালক ও বিএমএচট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক ডামোহাম্মদ শরীফপরিবার-পরিকল্পনা চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মুহাম্মদ নূরুল আমিনস্বাস্থ্য দফতরচট্টগ্রামের পরিচালক ডামোআলাউদ্দিন মজুমদারচট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিকআব্দুল জলিলজবি জর্জ,শংকর রঞ্জন সাহা ও ডাউম্মে জাহান আসমা।
ডাফাহমিদা সুলতানার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মাঝে আরো উপস্থিত ছিলেন চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খোন্দকার শহিদুল গণিবিএমএচট্টগ্রামের যুগ্ম সম্পাদক ডাফয়সাল ইকবালচমেক হাসপাতাল গাইনি বিভাগের প্রধান ডাশাহনারা চৌধুরীপরিবার পরিকল্পনা চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক ডারুকন উদ্দিনচট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডাআজিজুর রহমান সিদ্দিকী প্রমুখ। এছাড়াও চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলার সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন।
- See more at: http://www.dainikazadi.org/details2.php?news_id=1715&table=february2016&date=2016-02-15&page_id=1&view=0#sthash.4X7wmQll.dpuf

খবরের বাকি অংশ

টেকনাফে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের মাঠ কার্যক্রম পরিদর্শন


টেকনাফ, ১৬ জানুয়ারি, এবিনিউজ : আজ শনিবার পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সদ্য নিযুক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসাইন কক্সবাজার পরিদর্শন করতে এসে টেকনাফের পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। তিনি কক্সবাজার থেকে ১১.৪৫ মিনিটে রওনা দিয়ে মেরিন ড্রাইভ রোড দিয়ে মাঠ কার্যক্রম পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে ০২.৩০ মিনিটে টেকনাফ পৌঁছেন। পোঁছার পর সেন্ট্রাল রিসোর্টে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শ্রুতি পূর্ণ চাকমা, সূর্যের হাসি ক্লিনিকের ক্লিনিক ম্যানেজার অজয় কুমার চৌধুরী এবং মেরী স্টোপস ক্লিনিকের ক্লিনিক ম্যানেজার তাতু বড়ুয়া।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসাইন পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে জানান, টেকনাফের জনসাধারন বর্তমানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে অনেক সচেতন হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা ঠিক রাখার জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের কাজে আরো মনোযোগী হওয়ার জন্য গুরত্বারোপ করেন ও পরিশেষে তিনি সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

এবিএন/শনি-১ম/সারাদেশ/অমিত বণিক/মুস্তাফিজ/রাজ্জাক

খবরের বাকি অংশ

পোশাক শ্রমিকরা পাচ্ছেন জš§ নিরোধক সামগ্রী


জসিম উদ্দিন বাদল : তৈরি পোশাক শ্রমিকদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ও প্রজনন সম্পর্কে তাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে জš§ নিরোধক সামগ্রী বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় শ্রমিকদের মাঝে জš§নিরোধক বড়ি, কনডম ও ইনজেকশন বিতরণ করা হবে।
তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ও এনজেন্ডার বাংলাদেশ- এই তিনটি প্রতিষ্ঠান এক যোগে এ কাজ করবে। এ উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিজিএমইএ কার্যালয়ে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়।
এতে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পক্ষে মহাপরিচালক মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসাইন (এনডিসি), বিজিএমইএ’র পক্ষে এর সহসভাপতি (অর্থ) মোহাম্মদ নাছির এবং এনজেন্ডার বাংলাদেশের মায়ের হাসি-২’র প্রকল্প পরিচালক ড. আবু জামিল ফয়সাল চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, তৈরি পোশাক খাতে ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করে। এদের ৭০ শতাংশই হচ্ছে নারী শ্রমিক। এদের অধিকাংশই সক্ষম দম্পতি। কিন্তু তারা সরকারি হাসপাতাল বা কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে প্রজণন স্বাস্থ্য সেবা নিতে পারেন না।
এ কর্মসূচির মাধ্যমে পোশাক শ্রমিকদের সচেতন করা এবং তাদের মধ্যে প্রয়োজনীয় জš§ নিরোধক সামগ্রী বিতরণ করবে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের ফিল্ড সার্ভিস ডেলিভারি প্রোগ্রাম। যা বিতরণ করা হবে বিজিএমইএ’র মাধ্যমে। আর এই সমাগ্রী ব্যবহার পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেবে এনজেন্ডার বাংলাদেশ।
গর্ভধারণ করলে চাকরি হারাতে হতে পারে, এমন আশঙ্কায় অনেকে অনিরাপদ উপায়ে গর্ভপাত করাতে গিয়ে যে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়েন। এই কর্মসূচি সেসব পরিস্থিতি এড়াতে এবং নিরাপদ প্রজনন স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।
মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসাইন বলেন, তৈরি পোশাক কারখানায় সাধারণত প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে নারী শ্রমিকেরা আসেন। তারা প্রজনন ও স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন নয়। প্রজনন সংক্রান্ত সমস্যাগুলো সচরাচর ডাক্তারদের সঙ্গে আলোচনা করেন না। বিভিন্ন ক্লিনিকে অদক্ষদের মাধ্যমে গর্ভপাত ঘটান। এতে তারা নানাবিধ ক্ষতির সম্মুখীন হন। এ উদ্যোগের মাধ্যমে এই সমস্যা নিরসন হবে। আগামী দু-এক বছেরের মধ্যে এর সফলতা পাওয়া যাবে।
মোহাম্মদ নাছির বলেন, পোশাক শ্রমিকদের কল্যাণে বীমা সুবিধাসহ সব ধরনের সুবিধা দিয়ে আসছে বিজিএমইএ। সে ধারাবাহিকতায় তাদের স্বাস্থ্য ও প্রজনন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ।

খবরের বাকি অংশ

মঙ্গলবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

জনাব মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসেন, এনডিসি (অতিরিক্ত সচিব) মহাপরিচালক পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর

জনাব মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসেন, এনডিসি 
(অতিরিক্ত সচিব)
মহাপরিচালক
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর

জনাব মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসেন এনডিসি গত ১০/০১/২০১৬ ইং তারিখে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। 

তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের একজন অতিরিক্ত সচিব। জনাব হোসেন বিসিএস ১৯৮২ ব্যাচের কর ক্যাডারের কর্মকর্তা। বর্তমান পদে যোগদানের পূর্বে তিনি নিপোর্ট (ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পপুলেশন রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং) এর মহাপরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। 

তিনি গোপালগঞ্জ জেলা (তৎকালীন মহকুমা) সদরে সহকারী কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের মধ্য দিয়ে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ১৯৮২ বিশেষ ব্যাচের সদস্য হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৯৮২ নিয়মিত ব্যাচের সদস্য হিসেবে বিসিএস (ট্যাকসেশন) ক্যাডারে যোগদান করেন। সহকারী কর কমিশনার হিসেবে চট্টগ্রাম, ফেনী, কক্সবাজার ও কুমিল্লায় দায়িত্বপালনের পর উপ-কর কমিশনার, যুগ্ম কর কমিশনার এবং অতিরিক্ত কর কমিশনার হিসেবে ঢাকার বিভিন্ন কর অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করেন। জনাব মোহাম্মদ হোসেন ২০০১ সালের জানুয়ারি মাসে উপ-সচিব হিসেবে মূলধারার প্রশাসনে যোগদান করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রাষ্ট্রাচার উপ-প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০০২ এর অক্টোবর থেকে ২০০৪ এর আগষ্ট পর্যন্ত জাকার্তায় বাংলাদেশ দূতাবাসে কাউন্সেলর এর দায়িত্ব পালন করেন। আগষ্ট ২০০৪ এ যুগ্ম-সচিব হিসেবে পদোন্নতির পর তিনি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে কর্মরত ছিলেন। তিনি ২০০৫ সালে এনডিসি কোর্স সম্পন্ন করেন। ২০০৫ এর ডিসেম্বর থেকে ২০০৯ এর সেপ্টেম্বরে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পদোন্নতির পূর্ব পর্যন্ত বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ে যুগ্মসচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি জানুয়ারি ২০১০ থেকে অক্টোবর ২০১৪ পর্যন্ত বাংলাদেশ দূতাবাস ওয়াশিংটন ডি সি তে মিনিষ্টার (ইকনমিক) পদে দায়িত্ব পালন করেন। 

জনাব মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসেন ১৯৫৭ সালে নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার সেরাজনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আবদুল মান্নান ও মাতার নাম সাকিনা আখতার খাতুন। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক জনাব মোহাম্মদ হোসেন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড ও যুক্তরাজ্যের ব্র্যাডফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং সিঙ্গাপুর সিভিল সার্ভিস কলেজসহ দেশী-বিদেশী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা/প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। 

কর্মসূত্রে তিনি বিশ্বের সকল মহাদেশের ত্রিশটিরও অধিক দেশে সম্মেলন, প্রশিক্ষণ ও কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। জনাব হোসেন একজন ক্রীড়ানুরাগী এবং সফল সংগঠক। বই পড়া এবং দেশভ্রমণ তাঁর প্রিয় বিষয়। 

পারিবারিক জীবনে তিনি বিবাহিত ও দুই পুত্রের জনক। তাঁর স্ত্রী বুশরা ফারাহ ওয়াহিদ গৃহিনী এবং পুত্রদয় যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা ইউনির্ভাসিটি অব মেরিল্যান্ড (UMD, College Park) এবং ইউনির্ভাসিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া লস এঞ্জেলেস (UCLA) এ অধ্যয়নরত।  

খবরের বাকি অংশ

বৃহস্পতিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৫

পশ্চিমের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন লক্ষণীয়

মো. তৌহিদ হোসেন
গত বছরের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কোন্নয়ন। বিশেষ করে ২০১৩ ও ২০১৪ সালে বাংলাদেশ নিয়ে তাদের যে দৃষ্টিভঙ্গি ছিল, সেটির পরিবর্তন হয়েছে। নানাভাবে তাদের মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার প্রবণতা চোখে পড়েছে। এটি অত্যন্ত ইতিবাচক। কাজেই আগামী বছরও পশ্চিমের সঙ্গে সম্পর্কের এই গতি অব্যাহত রেখে দেশের সুফল আনার প্রয়াস চালানো উচিত।
ভারতের সঙ্গে সীমান্ত সমস্যার সমাধান দুই দেশের সম্পর্কের জন্য একটি মাইলফলক। দীর্ঘদিনের এ সমস্যা সমাধানের পর দেখা গেছে মানবিক এ সমস্যাটি তেমন জটিল না হলেও এটি সমাধানের জন্য দীর্ঘ ৬৮ বছর অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে। এ সমস্যা সমাধানের পর তিস্তার মতো বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত বিষয়গুলো সামনে আসবে। মনে রাখতে হবে, কোনো বড় সমস্যা সমাধানের পর লোকজনের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়। অগ্রগতি দেখার অপেক্ষায় থাকে লোকজন। সে ক্ষেত্রে সাফল্য না এলে লোকজন হতাশ হয়। কাজেই ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয় সামনে আসবে। এটিকে বিবেচনায় রেখে জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশকে এগোতে হবে।
বিনিয়োগের পরিবেশ নিয়ে আমরা বেশ উচ্চাশা পোষণ করি। এ দেশের বিনিয়োগের সহায়ক পরিবেশের কথাও বেশ প্রচার করে থাকি। কিন্তু বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বাইরের লোকজনের প্রয়োজনের বিষয়গুলো কতটা মেটানো হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। তা ছাড়া বাস্তবতা হচ্ছে, দেশীয় বিনিয়োগ সেভাবে হয়নি। আর দেশের ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ না করলে বিদেশ থেকে কতটা বিনিয়োগ আসবে, তা বলা মুশকিল।
সন্ত্রাসের বিষয়টি বিবেচনায় নিলে বছরটা ভালো গেছে তা বলার সুযোগ নেই। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে তার বিস্তার ঘটেছে। বাংলাদেশেও বছরের শেষ দিকে যা ঘটছে, তা অতীতে কখনো দেখা যায়নি।

খবরের বাকি অংশ

বৃহস্পতিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৫

চাপ আসতে পারে সৈন্য পাঠানোর

চাপ আসতে পারে সৈন্য পাঠানোর

মাসুদ করিম : বিতর্ক আর ধোঁয়াশা কাটছে না সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসবিরোধী জোট নিয়ে। কার্যপরিধি বোঝার আগেই জোটে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে সমালোচনার মুখে পড়েছে সরকার। যদিও কেউ কেউ বলছেন, বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ শ্রমবাজার সৌদি আরব যাতে সুরক্ষিত থাকে এবং নতুন করে সম্প্রসারিত হয় সেই লক্ষ্যে সন্ত্রাসবিরোধী এই জোটে যোগদানে রিয়াদের অনুরোধে দ্রুত সাড়া দিয়েছে ঢাকা। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই জোটে যোগদানের ফলে বাংলাদেশ থেকে সন্ত্রাসকবলিত দেশগুলোতে সৈন্য পাঠানোর জন্য সৌদি আরবের অনুরোধ জানানো কিংবা চাপ আসতে পারে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের পক্ষে এমন অনুরোধ রক্ষা করা কঠিন হবে। কেননা জাতিসংঘ ছাড়া অন্য কারও অধীনে বাংলাদেশ সৈন্য পাঠায় না। তাছাড়া সন্ত্রাসকবলিত দেশগুলো মুসলিম জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত হওয়ায় সেখানে যুদ্ধে বাংলাদেশের সৈন্য কিংবা ওইসব দেশের জনগণ যে কেউ নিহত হলেই মুসলমানদের কাছে তা স্পর্শকাতর ইস্যু হতে পারে। পাশাপাশি আইএস কিংবা অন্য যে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নিলে বাংলাদেশকে তারা টার্গেট করতে পারে। বিদেশে বাংলাদেশের কর্মীরাও এর শিকার হতে পারেন। এছাড়া সামরিক জোটে অংশগ্রহণ করলে সাংবিধানিক সংকট হতে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। তবে কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জাতিসংঘ কিংবা ওআইসি’র অধীনে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে বাংলাদেশের অংশগ্রহণে কোনো বাধা নেই। জানা গেছে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটে যোগদানের ব্যাপারে বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটির খুব বেশি আলোচনা হয়নি। কূটনৈতিক চ্যানেলে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে মাত্র। এতে রিয়াদে সন্ত্রাসবিরোধী সেন্টারের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হওয়ার জন্য সৌদি আরবের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে অনুরোধ জানানো হয়। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফোন করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে। তখনই বাংলাদেশ জোটে যোগদানের সম্মতির কথা জানায়। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে এই জোটের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সবিস্তারে জানতে চেয়েছে বাংলাদেশ। রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসকেও এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের অনেকে অবশ্য সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এ জোটের কার্যকারিতা নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন তুলছেন। সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন এই জোটে ৩৪টি মুসলিম দেশ যোগ দিয়েছে বলে আগেই ঘোষণা দেয়া হয়। যদিও এই জোটে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান ছাড়া বিদেশে সৈন্য পাঠাতে সামর্থ্যবান অন্য কোনো দেশ নেই। পাকিস্তান প্রথমে এই জোটে তাদের অন্তর্ভুক্ত করায় কিছুটা বিস্ময় প্রকাশ করলেও পরে তাদের যোগদান নিশ্চিত করে। আর বাংলাদেশ অসম্ভব দ্রুতগতিতে এ জোটে নিজেদের অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী টেলিফোনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে রিয়াদে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী একটি সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি অনুরোধ জানান। বলা হয়, এ কেন্দ টি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী তথ্যের আদান-প্রদান সমন্বয় করবে এবং প্রয়োজনে অন্য পদক্ষেপও নেবে। এর ফলে ‘প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ’ গ্রহণের আওতায় রিয়াদের এ কেন্দ্রের মাধ্যমে সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়টি উড়িয়ে দেয়া যায় না। সৌদি আরব নিজেও এটিকে একটি সামরিক জোট বলে অভিহিত করেছে। এসব বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, এ সেন্টারের মাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্যের বিনিময় হবে; বিধায় এটিকে সামরিক জোট বলা হচ্ছে। সৌদি জোটে যোগদানে সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে সাংবিধানিক এবং রাষ্ট্রীয় নীতি নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেন বিশিষ্ট আইন বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক। তিনি শুক্রবার বলেন, ‘সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতিসংঘের আওতাধীন না হলে কোনো ধরনের সামরিক জোটে কিংবা অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকার কথা সংবিধানে বলা আছে। তদুপরি কী জোট, উদ্দেশ্য, লক্ষ্য, কার্যক্রম কিছুই এখনও পরিষ্কার নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিদেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তি করতে গেলে বিশেষত সামরিক চুক্তি হলে সংবিধানের ১৪৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সেটা সংসদে উত্থাপন ও আলোচনা হতে হবে। একই সঙ্গে সাধারণভাবে যেসব দেশে একচ্ছত্র রাজতন্ত্র আছে এবং গণতন্ত্র নেই; সেসব দেশের সঙ্গে সামরিক বিষয়ে দহরম-মহরম কাম্য নয়।’ এদিকে সূত্র বলছে, বাংলাদেশ সাধারণত জাতিসংঘের অধীনে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সৈন্য পাঠিয়ে থাকে। একক কোনো দেশের নেতৃত্বে কোনো জোটের অধীনেও বাংলাদেশ সৈন্য পাঠায় না। ইতিপূর্বে ইরাকে সৈন্য পাঠানোর জন্য বাংলাদেশকে অনুরোধ জানিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তৎকালীন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডোনাল্ড রামফেল্ড বাংলাদেশ সফরে এসে এ অনুরোধ জানান। কিন্তু বাংলাদেশ ওই অনুরোধে কোনো সাড়া দেয়নি। এছাড়া শান্তিরক্ষায় ব্লু হেলমেটধারী সৈন্য ছাড়া কোনো কমব্যাট ফোর্স পাঠায় না বাংলাদেশ। সৌদি আরবের নেতৃত্বে জোট গঠনের প্রাক্কালে রিয়াদের ঘোষণায় বলা হয়েছে, সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেন ও আফগানিস্তানে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে কাজ করবে এ জোট। এ পর্যায়ে কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ এই বিষয় নিয়ে আরও আলোচনার তাগিদ দিয়েছেন। পাশাপাশি জাতিসংঘ কিংবা মুসলিম দেশগুলোর জোট ‘ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা’র (ওআইসি) অধীনে হলেই বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন। এ বিষয়ে অভিমত জানতে চাইলে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান যুগান্তরকে বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ একক কোনো দেশের অধীনে না হয়ে ওআইসির অধীনে হলে বাংলাদেশ যোগ দিতে পারে। একক কোনো দেশের এ উদ্যোগ চাপিয়ে দেয়া ঠিক নয়। বিষয়টি নিয়ে আরও বেশি আলাপ-আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। এ জোটের কার্যপরিধি কী হবে সেটিও আলোচনা করে নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের অনেকেই এখনও এই জোটের ব্যাপারে অন্ধকারে রয়েছেন। এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ফারুক সোবহান বলেন, ‘এই জোটের ব্যাপারে এবং তাতে যোগদানে সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়ে আমি তেমন কিছু জানি না। আমি আমাদের দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার পর এ বিষয়ে বলতে পারব।’ প্রায় একই রকম প্রতিক্রিয়া জানালেন আরেক সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মুফলে আর ওসমানী। তিনি বলেন, ‘এ জোটের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য এখনও আসেনি। কেন করেছে, কীভাবে আগাবে- তা বলা মুশকিল। এ ব্যাপারে সৌদি ও বাংলাদেশ সরকার স্পষ্ট করে কিছু বলেনি। তবে এটা কীভাবে কাজ করবে তার বিস্তারিত বলতে হবে। এ বিষয়ে মানুষের জানার অধিকার রয়েছে।’ নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ মেজর জেনারেল (অব.) মুনিরুজ্জামান বলেন, ‘সৌদি আরব এটিকে সামরিক জোট বললেও বাংলাদেশ এ বিষয়ে সুস্পষ্ট কিছু বলেনি। বাংলাদেশ সরকার শুধু বলেছে, এটি তথ্য আদান-প্রদানের একটি কেন্দ্র। তথ্য আদান-প্রদানের কেন্দ্র নিয়ে সামরিক জোট হয় না। তবে সৌদি আরব এটিকে সামরিক জোট বলছে কেন? এ প্রশ্নের জবাবের পর্যাপ্ত তথ্য বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে এখনও মেলেনি।’ এদিকে ঢাকার পররাষ্ট্র দফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, এখন পর্যন্ত রিয়াদের অনুরোধে যা বলা হয়েছে তাতে সম্মতি দিতে বাংলাদেশের কোনো অসুবিধা নেই। এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক সেনাপ্রধান অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাহবুবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সঙ্গে সহায়ক ভূমিকা পালনে দোষের কিছু নেই। তবে সৈন্য পাঠাতে হলে অবশ্যই তা জাতিসংঘের আওতায় হতে হবে। এদিকে লক্ষণীয় যে, সাম্প্রতিককালে সৌদির অনুরোধে বাংলাদেশ খুব দ্রত সাড়া দিচ্ছে। ইতিপূর্বে ইয়েমেনে সৌদি হামলার প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছিল বাংলাদেশ। অনেকে মনে করেন, সৌদি আরব বাংলাদেশের জনশক্তির প্রধান বাজার হওয়ায় ঢাকা এসব অনুরোধ রক্ষা করছে। কিন্তু কোনো প্রকার চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই এভাবে সাড়া দেয়ার ফলে আইএসপ্রবণ দেশগুলোতে কর্মরত বাংলাদেশীরা বিপদে পড়তে পারেন। তাদের ওপর হামলা হওয়ারও যথেষ্ট সংশয় থেকে যাবে। কিছুদিন আগে লিবিয়ায় আইএস জঙ্গিরা বাংলাদেশের কর্মীদের টার্গেট করে অপহরণ করেছিল। এ কারণে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করে সতর্ক অবস্থান নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞ সাবেক রাষ্ট্রদূত এম শফিউল্লাহ বলেন, ‘বাংলাদেশে বর্তমান সরকারের জাতীয় নীতি হল সন্ত্রাসবিরোধী নীতি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী টাস্কফোর্স গঠনের উদ্যোগও নিয়েছিলেন। এ কারণে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিশ্বে কোথাও কোনো জোট হলে বাংলাদেশ নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়ে থাকে। সেই বিবেচনায় সৌদি জোটে যোগদান অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু সৌদি আরব শুধু সুন্নি মুসলমানদের নিয়ে এ জোট গঠন করেছে। সিরিয়া, ইরাক, আফগানিস্তানসহ যেসব দেশ সন্ত্রাসকবলিত তার কোনোটিই এ জোটে নেই। ইরানকে বলা হয় শিয়াদের নেতা। সেই ইরানও এ জোটে নেই। পাকিস্তান নিজেরা জঙ্গিবাদের প্রশিক্ষণ দেয়। অথচ পাকিস্তান এ জোটে আছে। ফলে সন্ত্রাসবিরোধী জোটের প্রতি নীতিগতভাবে সমর্থন থাকলেও সেটিকে কোনো রাষ্ট্রের অধীনে না করে ওআইসির অধীনে করা হলে বাংলাদেশসহ কোনো মুসলিম দেশের এ জোটে যোগদান নিয়ে আপত্তি থাকার কারণ নেই।’ সাবেক রাষ্ট্রদূত শফিউল্লাহ অবশ্য সৌদি অনুরোধে নীতিগত সম্মতি দেয়ায় দোষের কিছু দেখছেন না। তিনি বলেন, ‘সৌদি আরবে বাংলাদেশের জনশক্তি আছে। তাই তাদের অনুরোধ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করলে ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে। এতে আমাদের কর্মসংস্থানে সমস্যা হতে পারে। তবে এটাও ঠিক যে, ওআইসির অধীনে না গেলে এই জোট শিয়াদের বিরুদ্ধে এবং আমেরিকা করাচ্ছে বলে মনে হতে পারে। ফলে এতে যোগ দিলে বাংলাদেশের কর্মীরা আইএসের টার্গেট হতে পারে। লিবিয়াতেও একবার টার্গেট হয়েছিল।’ তাই তিনি জোটের কাঠামো দেখে অগ্রসর হওয়ার জন্য সরকারকে পরামর্শ দেন। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী এই জোটের কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় এখনও কাটেনি। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘এ জোটে যারা আছে তাদের একেকজনের একেক রকমের চিন্তা-ভাবনা। ফলে এ জোট কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে সন্দেহ আছে। এ জোটে যোগদানের ব্যাপারে সৌদি আরবের অনুরোধ ছিল। সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বার্থ জড়িত রয়েছে। এ স্বার্থ বিবেচনা করেই বাংলাদেশ সম্ভবত জোটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এ ব্যাপারে আরেকটু সময় নিলে ভালো হতো।’ সাবেক রাষ্ট্রদূত নাসিম ফিরদাউস বলেন, ‘এটা কি রাজনৈতিক নাকি সামরিক জোট তার রূপরেখা জানা নেই। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের ব্যাপারে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের ব্যাখ্যায় তফাৎ আছে। এ জোটে পাকিস্তান অন্তর্ভুক্ত আছে। প্রশ্ন হল- এ জোটের অধীনে চাইলে কি আমরা যুদ্ধে যাব? আমরা কি পাকিস্তানের সৈন্যদের সঙ্গে এক কাতারে যুদ্ধ করব? যেখানে বলা হচ্ছে, পাকিস্তানের কূটনীতিক জঙ্গি তৎপরতায় জড়িত, সেখানে জঙ্গিবিরোধী গোয়েন্দা তথ্য কি আমরা পাকিস্তানের সঙ্গেও বিনিময় করব? আমার কাছে এসব বিষয় এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে এ জোটে আমাদের সম্পৃক্ততা কতখানি হওয়া উচিত তা নিয়ে আরও চিন্তা-ভাবনা করা উচিত।’ -যুগান্তর ১৯ ডিসেম্বর,২০১৫/এমটি নিউজ২৪/এসবি/এসএস

খবরের বাকি অংশ

কম্পিউটারের বই

ইংরেজী গ্রামার বই

পৃষ্ঠাসমূহ

বইটি পড়তে বইটির উপরে ক্লিক করুন

লেকচার সিট

ফটোশপ বই

ইংরেজী গ্রামার বই

অ্যাডবি ইলাস্ট্রেটর